লোগো ডিজাইনের জন্য টিপস!

mehedi

আমরাতো সবাই লোগো চিনি। কিন্তু লোগো ডিজাইনের সঠিক নিয়ম আমরা জানিনা। সেজন্য আমাদের তৈরিকৃত লোগো ডিজাইন অনেকটা ফ্লপ হয়ে যায় আর পরবর্তীতে আমরা হতাশ হয়ে যাই।

কোন সমস্যা ছাড়া কিভাবে লোগো তৈরি করবেন সে সম্পর্কে আজকে আপনাদের জন্য আলোচনা করার চেষ্টা করবো। চলুন শুরু করা যাকঃ

১. অতিরিক্ত নকশাঃ

বিখ্যাত টুইটার বার্ড আইকনটির পিছনে ডিজাইনার লোগো ডিজাইনের জন্য তার মূল নিয়ম হিসেবে বলেছিলেনঃ ‘এটি শুধুমাত্র একটি কৌশল।’ আমি এই দৃষ্টিভঙ্গিটি পছন্দ করি, কারণ এটি আপনাকে সরলতা অগ্রাধিকার দেয় কিন্তু অতিরিক্ত কোন নকশা নয়।

বর্তমানে বেশ কয়েকটি স্মার্ট ব্যবসায় একটি সমস্যার সমাধান করার সবচেয়ে ভালো সমাধান নিয়ে এসেছে আর সমাধানটি হলো তাদের প্রতিষ্ঠানের লোগো। অর্থাৎ তারা তাদের প্রতিষ্ঠানকে তাদের লোগোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে। এতে করে তাদের আর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আলাদাভাবে কোন প্রচারনা চালানো লাগেনা।

২. জটিল ডিজাইন প্রত্যাহারঃ

যদি আমাকে শুধু একটি লোগো ডিজাইন টিপ সিলেক্ট করতে হয় তবে আমি এমন নকশাটি সিলেক্ট করবো যা খুব জটিল না। কারণ অনেকেই স্রলতা পছন্দ করে। তাই আমাদের যেকোনো লোগো ডিজাইনের ক্ষেত্রে জটিলতা প্রত্যাহার করাই শ্রেয়।

৩. সঠিক রং-এর ব্যবহারঃ

যেকোনো ডিজাইনের ক্ষেত্রে রং-এর সঠিক ব্যবহার করা উচিৎ। কারণ রং-ই আপনার ডিজাইনকে ফুটে তুলবে। আর লোগো ডিজাইনের জন্য সঠিক রং-এর ব্যবহার যে কতোটা প্রয়োজন তা শুধুমাত্র ডিজাইনাররাই জানেন।

লোগো তৈরির সময় এমন রং পছন্দ করবেন যেন লোগোটি রং-এর জন্য বেশি ফুটে ওঠে।

৪. অর্থপূর্ণঃ

আপনার লোগোটি আপনার কোম্পানির পণ্য, পণ্য বা পরিষেবাটির মানগুলি প্রতিফলিত করতে সক্ষম হওয়া উচিত। অর্থাৎ আপনার তৈরিকৃত লোগো উক্ত প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যকে বহন করে বা আপনার প্রতিষ্ঠানটি কি বিষয়ক সেইটা তুলে ধরে।

৫. সৃজনশীলতার প্রকাশঃ

লোগো তরি করার অতিরিক্ত পরিশ্রম করার প্রলোভন প্রতিরোধ করতে হবে। অনেক তরুণ ডিজাইনার তাদের সৃজনশীল লোগো ডিজাইন ধারনাগুলি ধীরে ধীরে ডিজাইনে যুক্ত করতে চায়, যেমনঃ gradient, glow, bevel, shadow ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো ধিরে ধিরে ডিজাইনে সংযুক্ত না করে প্রথমেই সংযুক্ত কওরে নেওয়া ভালো। এতে করে আপনার ডিজাইনের সৃজনশীলতা অনেকাংশে প্রকাশ পাবে।

৬. জেনেরিক টাইপফেস থেকে দূরে থাকুনঃ

যদি আমাকে একটি লোগো ডিজাইন করার ক্ষেত্রে একক সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ টিপ সরবরাহ করতে হয় তবে এটি সাধারণ টাইপফেস এড়াবো।

যদিও এটি বেশিরভাগ ডিজাইনারদের কাছে স্পষ্ট হতে পারে তবে এটি অনেক কোম্পানি এবং সংস্থার কাছে স্পষ্ট নয়। লোগো ডিজাইনের অনন্য টাইপোগ্রাফি professional look একটি অত্যন্ত সহজ উপায়।

৭. প্রতিযোগিতাঃ

নতুন ডিজাইনারের প্রতিযোগিতাটি সম্পর্কে লোগো তৈরির আগে নিজে নিজে ভেবে নেওয়া উচিৎ। অর্থাৎ ওই প্রতিযোগিতায় কোন ডিজাইনার কিভাবে ডিজাইন করছে তা থেকে আইডিয়া নেওয়া উচিৎ।

অন্য ডিজাইনাররা কোন ফন্ট বা রং ব্যবহার করেছে এইটা দেখে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ বলে আমি মনে করি।

ভাল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পারলে আপনি একের অধিক ডিজাইন তৈরি করুন।

৮. মার্কেটিং ফোকাসঃ

বাজারে সেরা ব্র্যান্ডিং সবচেয়ে নির্দিষ্ট টার্গেট সম্ভব – প্রত্যেকেরই নয়। সেই লক্ষ্যে পরিচালিত একটি অত্যন্ত মনোযোগী চাক্ষুষ ব্র্যান্ডকে দর্শকদের সাথে সংযুক্ত করা উচিৎ।

আপনি যদি উপরিক্ত বিষয়সমুহ মাথায় রেখে একটি লোগো ডিজাইন শুরু করেন তাহলে আপনি অবশ্যই ভালো মানের ডিজাইন সম্পুন্ন করতে পারবেন।

আশা করি আমার আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি আসসালামু আলাইকুম।

No comments

Theme images by Deejpilot. Powered by Blogger.