ফটোশপে এনিমেশন এবং ভিডিও এডিট
ফটোশপের দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে নানারকম নতুন বিষয় যোগ করা হয়েছে। কখনো কখনো এমন ফিচার যোগ করা হয়েছে যাকে বলা যেতে পারে যুগান্তকারী। যেমন 3D তৈরী এবং ব্যবহারের সুযোগ। কিংবা ফটোশপের ভেতর থেকে এনিমেশনের সুযোগ। এর আগে গিফ এনিমেশনের টিউটোরিয়াল দেয়া হয়েছে। ফটোশপে কিভাবে 2D মডেল তৈরী/ইমপোর্ট করা যায় সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে। এদেরকে একসাথে করলে বিষয়টি যা দাড়ায় তা হচ্ছে আপনি ফটোশপেই এনিমেশন করতে পারেন। 2D লেয়ার এনিমেশন হোক আর 2D এনিমেশনই হোক।
আপনি হয়ত এনিমেশনের জন্য এডোবির আরেক জনপ্রিয় সফটওয়্যার আফটার ইফেক্ট এর কথা জানেন। যদি ফটোশপ আপনার মুল বিষয় হয় তাহলে আপনি ফটোশপেই সেখানকার মত টাইমলাইন-কিফ্রেম ইত্যাদি ব্যবহার করে এনিমেশনের কাজ সেরে নিতে পারেন। ফটোশপে ভিডিও ফুটেজ ইমপোর্ট করে টাইটেল তৈরী বা স্পেশাল ইফেক্ট ব্যবহারের কাজ করতে পারেন।
কাজ শুরুর আগে এটা মনে রাখাই ভাল, ফটোশপ ফটোশপ এবং আফটার ইফেক্ট। তেমনি প্রিমিয়ার প্রিমিয়ার। একের কাজ অন্যকে দিয়ে তত ভালভাবে হবে না। বরং সবগুলো ব্যবহার করেই সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
ফটোশপে লেয়ার এনিমেশনের একটি উদাহরন থেকে শেখা যাক।
ফটোশপে নতুন একটি লেয়ার ভিত্তিক কম্পোজিশন তৈরী করুন অথবা আগের করা ডকুমেন্টটি ওপেন করুন।
মেনু থেকে Window – Animation সিলেক্ট করুন। আফটার ইফেক্ট এর মত টাইমলাইন পাওয়া যাবে। প্রতিটি লেয়ারকে পৃথক পৃথকভাবে এনিমেট করা যাবে।
এনিমেশন কত সময়ের এবং ফ্রেমরেট কত সেটা ঠিক করার জন্য টাইমলঅইনের ডানদিকের ওপরের কোনের ফ্লাইআউট মেনু থেকে Document Setting সিলেক্ট করুন। ডকুমেন্ট টাইমলাইন সেটিং ডায়ালগ বক্সে ঘন্টা : মিনিট : সেকেন্ড : ফ্রেম এই হিসেবে নতুন সময় টাইপ করে দিন।
যে লেয়ারকে এনিমেট করতে চান বামদিকের প্যানেলে সেই লেয়ারের নামের পাশে ত্রিকোনাকার অংশে ক্লিক করে লেয়ারের প্রোপার্টি ওপেন করুন। পজিশন, অপাসিটি এবং ষ্টাইল এই তিনটি বিষয় এনিমেট করা যাবে।
পজিশন পরিবর্তনের জন্য শুরুতে যেখানে লেয়ারটি থাকবে সেখানে সিটিআই (Current Time Indicator) আর্টবোর্ডে আনুন।
লেয়ারের পজিশন লেখার পাশে ষ্টপওয়াচে (ছোট বৃত্ত) ক্লিক করুন। একটি কিফ্রেম তৈরী হবে।
টাইম লাইনের যে সময়ে পরিবর্তণ চান সেখানে সিটিআই নিয়ে যান এবং লেয়ারের অবস্থান পরিবর্তণ করুন। ষ্টপওয়াচ অন থাকায় প্রতিটি পরিবর্তনের জন্য কিফ্রেম তৈরী হবে।
নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করে প্লে করে প্রিভিউ দেখুন।
পজিশনের মত অপাসিটি এবং অন্যান্য বিষয় এনিমেট করে দেখুন।
সবকিছু ঠিক করার পর ভিডিও ফাইল তৈরীর জন্য File – Export – Render Video কমান্ড দিন এবং ভিডিও ফরম্যাট সহ অন্যান্য বৈশিষ্ট ঠিক করে দিন।
টাইমলাইন ব্যবহার বিষয়ে যদি না জানা থাকে তাহলে গ্রাফিক স্কুলের আফটার ইফেক্ট এর প্রাথমিক টিউটোরিয়াল দেখে নিতে পারেন। অথবা প্রিমিয়ার ব্যবহার টিউটোরিয়াল দেখুন।
প্রিমিয়ার ভিডিও এডিটিং এর জন্য, আফটার ইফেক্ট পুরোপুরি এনিমেশনের জন্য এবং ফটোশপ ইমেজ এডিটিং এবং গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য। ফটোশপে ইমেজকে ইচ্ছেমত পরিবর্তনের যে সুযোগ তা অন্য সফটওয়্যারদুটিতে নেই। কাজেই ফটোশপের ইমেজকে আফটার ইফেক্টসে নিয়ে এনিমেট না করে সে কাজটি ফটোশপেই করে নিতে পারেন। সেইসাথে থ্রিডি/ভিডিও ইত্যাদি ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ফটোশপের টুল ব্যবহার করে ভিডিওতে নতুনত্ব আনতে পারেন।
ইমেজের ব্যাকগ্রাউন্ড বাদ দিতে ফ্লুইড মাস্কঃ
কোন ছবি থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড বাদ দেয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি কাজ। ঘরে মধ্যে উঠানো ছবিকে অনায়াসে বাগানে দাড়ানো ছবি বানানো যায় এর মাধ্যমে। এছাড়া এনিমেশন বা ভিডিওতে কিংবা ওয়েবসাইটে এভাবে ছবি ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়। ফটোশপের নিজস্ব টুল ব্যবহার করে ব্যাকগ্রাউন্ড বাদ দেয়া একাধিক টিউটোরিয়াল আগে সেয়া হয়েছে বাংলা-টিউটর সাইটে। এই পদ্ধতিগুলো সময়সাপেক্ষ। তারপরও মানুষের চুল কিংবা কোন প্রানীর লোম এই অংশগুলো নিখুতভাবে পাওয়া যায় না। এই কাজগুলো দ্রুত এবং সহজে করার জন্য বেশকিছু থার্ডপার্টি সফটঅয়্যারের প্রচলন রয়েছে। ভারটুসের তৈরী ফ্লুইড মাস্ক এ ধরনের একটি সফটওয়্যার।
ফ্লুইড মাস্ক প্লাগইন হিসেবে ফটোশপের ভেতর থেকে ব্যবহার করা যায় আবার ফটোশপ ছাড়াই পৃথক সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ইনষ্টল করলে দুটিই পাবেন। ষ্ট্যান্ড এলোন ভার্শনে ওপেন কমান্ড দিয়ে ইমেজ ওপেন করবেন আর ফটোশপে ওপেন ইমেজের ক্ষেত্রে অন্যান্য ফিল্টার ইফেক্টের মত ফিল্টার প্রয়োগ করবেন। ইন্টারফেস এবং কাজের ধরন পুরোপুরি এক।
জেনে নিন যেভাবে ইমেজ থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড বাদ দেবেনঃ
ইমেজটি ওপেন করুন। ফটোশপের ক্ষেত্রে ফিল্টার প্রয়োগ করুন।
ফ্লুইড ইন্টারফেসে টুলবক্সে লাল এবং সবুজ দুধরনের ব্রাশ রয়েছে। যে জায়গা বাদ দেবেন (Background) সেখানে লাল রঙের ব্রাশ ব্যবহার করে পেইন্ট করুন। প্রয়োজনে ব্রাশের সাইজ বড়-ছোট করে নিন। এছাড়া ফটোশপের ম্যাজিক সিলেকশনের মত খুব সহজেই কোন অংশ বাদ দেবেন সেটা ঠিক করে নিতে পারেন।
সবুজ ব্রাশ সিলেক্ট করুন এবং যে অংশ রাখতে চান সেই অংশ পেইন্ট করুন।
নিল রঙের ব্রাশ (Blending Extract Brush) ব্যবহার করে লাল এবং সবুজের মধ্যবর্তি যে জায়গাগুলো সফটওয়্যার হিসেব করবে সেই জায়গা পেইন্ট করুন। মুলত চুলের মত জায়গাগুলো এই অংশের মধ্যে থাকবে।
ব্যাকগ্রাউন্ড ট্রান্সপারেন্ট চান অথবা সলিড কোন রং চান সেটা ঠিক করে দিন
টুলবক্সে অথবা মেনু থেকে কমান্ড দিন Create Cut-out (Ctrl+U)
মোটামুটিভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজ পাবেন।
মুল ইমেজের ওপরে সোর্স, ওয়ার্কস্পেস এবং কাট-আউট ট্যাব ব্যবহার করে যে কোন ভিউতে গিয়ে দেখে নিতে পারেন এবং পরিবর্তন করতে পারেন।
আসলে মূল নিয়ম এটাই। কাজের সময় ব্রাশকে দক্ষতার সাথে প্রয়োগ করে, বিভিন্ন প্যারামিটার পরিবর্তন করে এবং অন্যান্য যে টুলগুলো দেয়া আছে সেগুলো ব্যবহার করে খুব দ্রুতই এই সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষ হতে পারেন।
ব্যাকগ্রাউন্ড ট্রান্সপারেন্ট করলে সেভ করার সময় প্রিন্টের জন্য TIFF এবং স্ক্রিনের জন্য PNG ফরম্যাটে সেভ করুন। এছাড়া ইচ্ছে করলে আপনি অবশ্যই ব্যাকগ্রাউন্ডে অন্য ইমেজ ব্যবহার করতে পারেন।
আশা করছি আমার আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনি চাইলে উপরিক্ত নিয়ম আনুসারে আপনার ভিডিও ও ইমেজ এডিটিং করে নিতে পারবেন। আজকে এখানেই শেষ করছি। আগামীতে আপনাদের জন্য ভালো কিছু নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্। সে পর্যন্ত গ্রাফিক স্কুলের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ সবাইকে। আসসালামু আলাইকুম!
No comments